‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পে টাকা দেওয়া শুরু, আপনার টাকা ঢুকবে তো? জানুন বিস্তারিত


রাজ্যের সাধারণ ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত করতে পূর্বের তৃণমূল সরকার চালু করেছিল ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প। এবার রাজ্যের বিজেপি সরকার তার নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। আর গত ৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার থেকেই এই ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পে টাকা দেওয়া শুরু করল রাজ্য সরকার (Paschim Banga Awas)। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় থাকা যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া বা ডিবিটি চালু হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি উপভোক্তার জন্য দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা বাবদ ৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি খারাপ খবর হল, ১২ হাজারের বেশি উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আপনার অ্যাকাউন্টে আদেও টাকা ঢুকবে তো? না ঢুকলে কি করবেন? সেইসব বিস্তারিত জেনে নিন আজকের প্রতিবেদনে।

রাজ্য সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রেখেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। পূর্ববর্তী প্রক্রিয়ায় যাচাই বাছাই ও যেসব প্রশাসনিক কাজ থমকে ছিল, তা দ্রুত শেষ করে এবার বরাদ্দ অর্থ সরাসরি উপভোক্তার হাতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবার রাজ্য।

কত টাকা পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন কিস্তিতে কত বরাদ্দ?

‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পে সাধারণত মোট আর্থিক সাহায্য কয়েকটি কিস্তিতে বা ফেজে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়।

  • প্রথম কিস্তি: বাড়ির ভিত্তি তৈরির কাজের সূচনা করার জন্য প্রথম দফায় ৪০,০০০ টাকা উপভোক্তাকে দেওয়া হয়।
  • দ্বিতীয় কিস্তি: প্রথম কিস্তির টাকায় বাড়ির কাজ শুরু হয়ে লিন্টেল স্তর পর্যন্ত সম্পন্ন হলে সরকারের প্রতিনিধিরা তা পরিদর্শন ও ছবির মাধ্যমে যাচাই করেন। এই যাচাই পর্ব সফল হলে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরও ৬০,০০০ টাকা প্রদান করা হয়।
  • পরবর্তী বা শেষ কিস্তি: ছাদ এবং সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ সমাপ্তির জন্য বাকি ২০,০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন যোগ্য উপভোক্তার জন্য প্রায় ৬,১২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ সরাসরি ডি বি টি এর মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও না পেলে এই কাজ করুন

১২ হাজারের বেশি উপভোক্তার নাম বাদ

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন কারণে প্রায় ১২ হাজারের বেশি উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে প্রকল্প থেকে। এর মধ্যে যেসব কারণ রয়েছে,

  • আবেদনের সময় জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরেজমিনে তদন্তের তথ্যের অসঙ্গতি।
  • প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েও যারা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাড়ির কাজ লিন্টেল স্তর পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পারেননি।
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক না থাকা বা ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান।

আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে তো? যেভাবে স্ট্যাটাস চেক করবেন

আপনি যদি ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ বা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে আবেদন করে থাকেন এবং আপনার দ্বিতীয় বা পরবর্তী কিস্তির টাকা কবে ঢুকবে তা জানতে চান, তবে:

  • আপনার এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস অথবা বিডিও অফিসে গিয়ে আবাস প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সেখানে অনুমোদিত উপভোক্তাদের একটি আপডেট তালিকা টানানো থাকে। আপনি নিজের আধার কার্ড নম্বর, জব কার্ড নম্বর বা আধার যুক্ত আবেদনপত্র নিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন।
  • শহরের বাসিন্দারা তাদের নিকটস্থ পৌরসভা বা বরো অফিসে যোগাযোগ করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ বা ‘বাংলার বাড়ি’ তালিকার বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে পারেন।

যাদের এখনো টাকা ঢোকেনি, তারা কী করবেন?

যদি আপনার এখনো কোনো অর্থ জমা না হয়, তবে নিচের পদক্ষেপগুলি গ্ৰহণ করলে দ্রুত টাকা ঢুকতে পারে:

  • আপনার ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অবশ্যই NPCI mapping বা e-KYC সম্পন্ন থাকতে হবে। না হলে সরাসরি ডিবিটি-র মাধ্যমে পাঠানো টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হতে আটকে যায়।
  • আপনার বাড়ির কাজ কতটা হয়েছে তা পঞ্চায়েতের বা স্থানীয় আবাসন পরিদর্শকদের জানান, যাতে তারা এসে ছবি তুলে পোর্টালে আপনার নতুন স্ট্যাটাস আপডেট করে দিতে পারেন।
  • ব্লকে গিয়ে আপনার আবেদন নম্বর বা আধার কার্ড জমা দিয়ে কোনো অসঙ্গতি বা ‘হোল্ড’ ফ্ল্যাগ আছে কি না তা জেনে নিন।

আরও পড়ুনঃ এইসব কৃষকরা পিএম কিষান সম্মান নিধি ২৪তম কিস্তি পাবেন না!

সরকারি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হন👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *