দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার তাদের সেই দাবিতে সম্মতি দিল। একসঙ্গে রাজ্যের ৪২ হাজার প্যারা টিচারদের ৫ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি হল। গত ২৯ জুলাই নবান্নের সভাঘরে এক বৈঠকে রাজ্যের ৮০ হাজারেরও বেশি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলকে মোট ২৯৬ কোটি টাকার বেশি ‘কম্পোজিট গ্রান্ট’ (Composite School Grant) দিয়েছে রাজ্য সরকার। বলা হয়েছে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই টাকা ব্যবহার করা হবে। এই বৈঠকেই একইসঙ্গে রাজ্যের প্যারা টিচারদের বেতন বৃদ্ধি এবং শীঘ্রই মোট ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগেরও সুখবর মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। বিস্তারিত তথ্য আজকের প্রতিবেদনে দেখুন।
প্যারা টিচার বা পার্শ্ব শিক্ষকদের রাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষার মূল স্তম্ভ বলা চলে। কিন্তু এতদিন হাজার দাবি দাওয়া এবং আন্দোলন সত্বেও রাজ্য সরকার তাদের বেতন বৃদ্ধি করেনি। বর্তমানের মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে তারা একই বেতনে কাজ করে আসছিলেন। এবার সেই দীর্ঘদিনের দাবিতে সিলমোহর পড়ল। একধাক্কায় ৫,০০০ টাকা বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মোট ৪২,১৯২ জন প্যারা টিচার এই সুবিধা পেতে চলেছেন।
আগে বেতন কত ছিল, এখন কত হল?
প্রাথমিক প্যারা টিচার: পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক স্তরের প্যারা টিচারদের প্রাথমিক স্তরে মাসিক বেতন ছিল ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে ৫০০০ টাকা বৃদ্ধির ফলে এখন থেকে তারা ১৫,০০০ টাকা করে পাবেন।
উচ্চ প্রাথমিক প্যারা টিচার: অন্যদিকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে প্যারা টিচারদের আগের বেতন ছিল মাসে ১৩ হাজার টাকা। এখন অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা যুক্ত হয়ে নতুন বেতন ১৮ হাজার টাকা মিলবে।
কবে থেকে কার্যকর হবে?
রাজ্য জানিয়েছে, এই বর্ধিত বেতন ১ আগস্ট থেকেই কার্যকর হতে চলেছে। যা শিক্ষক শিক্ষিকারা সেপ্টেম্বর মাস থেকে অ্যাকাউন্টে পাবেন।
শীঘ্রই ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে শূন্যপদ পূরণ এবং শিক্ষার মান উন্নত করতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় গতি আনার ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২২ জুন রাজ্য বাজেটেই অর্থমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা করেন। এবার নবান্নে আয়োজিত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরো একবার তার প্রতিশ্রুতি দিলেন। তিনি জানান, কয়েক দফায় আলাদা আলাদা করে এই শূন্যপদ পূরণ করবে রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশ মেনে স্বচ্ছতার সাথে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রথম দফায় ১২,০০০ নিয়োগ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় প্রথমে ১২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
পরবর্তী দফায় ৩৮,০০০ পদ পূরণ: প্রথম দফার নিয়োগ সম্পূর্ণ হওয়ার পরপরই ধাপে ধাপে আরও প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ চাকরিতে কাটমানি রুখতে হেল্পলাইন চালু করল রাজ্য
আর কি কি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে?
এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীরাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলোতে মিড ডে মিলের গুণগত মান উন্নত করতেও বিশেষ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) ইসকনের (ISKCON) মাধ্যমে স্বাদু ও মানসম্মত মিড-ডে মিল সরবরাহের কাজ শুরু হতে চলেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহায়তায় শিক্ষার্থীদের খাদ্যতালিকায় আরও বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিম যুক্ত করার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া পিএম শ্রী (PM SHRI) প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির সংখ্যা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ বা তার বেশি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে থাকা কোটি কোটি টাকা এনে রাজ্য বিদ্যালয়গুলির মান আরও বাড়ানো সম্ভব হয়।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হন