রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য ‘নিষ্ঠা’ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, কিভাবে করবেন? সম্পূর্ণ গাইড


পশ্চিমবঙ্গের সরকারি, সরকার পোষিত এবং রাজ্য সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য ‘নিষ্ঠা’ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করল রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০’ এর আওতায় রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রধান শিক্ষকদের জন্য বছরে ৫০ ঘণ্টার একটি ‘কন্টিনিউয়াস প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট’ (CPD) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘DIKSHA’ প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে ‘NISHTHA’ মডিউলের অধীনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন (Paschim Banga Samagra Shiksha Mission – PBSSM)-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি মেমোরেন্ডাম জারি করে রাজ্যের সমস্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক ও স্কুল পরিদর্শকদের এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত?

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র আওতায় শিক্ষক শিক্ষিকাদের শিক্ষাদানের মানোন্নয়নের জন্য নিয়মিতভাবে টিচিং পদ্ধতিতে বদল আনা দরকার। আর সেই উদ্দেশ্যেই এখন থেকে প্রতিটি শিক্ষকের জন্য বছরে ন্যূনতম ৫০ ঘণ্টা পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই প্রশিক্ষণ তাদের নিত্যনতুন টিচিং টেকনিক, এবং অ্যাকাডেমিক ও এক্সট্রা কারিকুলার ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াবে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা সেই সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু শিখতে পারবে।
দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে থাকা নিষ্ঠা মডিউলগুলি মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর কাজ করে:

  • ক্লাসরুমে কঠিন বিষয়গুলিকে কিভাবে খেলার ছলে বা সহজ উদাহরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়, তা শেখানো হয়।
  • স্রেফ বই পড়ে নয়, বরং বিভিন্ন কার্যকলাপ ও প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে শেখানো হয়।
  • প্রতি ক্লাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ইন্টারঅ্যাকশন বাড়ানো এবং পড়াশোনার পরিবেশের উন্নতি ঘটানোর জন্য শিক্ষকদের ট্রেইন করা হয়।

সকলের জন্যই ‘নিষ্ঠা’ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে বহু সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দীক্ষা পোর্টালে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরুও করেছেন। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এখনও ফাঁক থেকে গিয়েছে। দফতর চাইছে, রাজ্যের একজন শিক্ষকও যেন এই প্রসেস থেকে বাদ না পড়েন।
তাই ১০০% লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জেলা স্তর থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত কড়া তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল পরিদর্শকদের নিয়মিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোর্সের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে এবং প্রযুক্তিগত কোনও সমস্যা হলে বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে তৎক্ষণাৎ তা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ WBSSC 2nd SLST ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের তারিখ ঘোষণা হল 

কিভাবে DIKSHA প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ নেবেন শিক্ষকরা?

শিক্ষকদের সুবিধার জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও কোর্স সম্পন্ন করার উপায় রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে:

  • অ্যান্ড্রয়েড প্লে-স্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে ‘DIKSHA‘ মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে অথবা সরাসরি diksha.gov.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
  • শিক্ষক হিসেবে নিজের রাজ্য, জেলা, ব্লক এবং স্কুল বাছাই করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
  • নিষ্ঠা (NISHTHA) ট্যাবে গিয়ে নিজের বিভাগীয় বা বিষয়ভিত্তিক ৫০ ঘণ্টার সিপিডি মডিউল সিলেক্ট করতে হবে।
  • প্রতিটি মডিউল শেষে অনলাইন কুইজ বা অ্যাসেসমেন্ট দিতে হবে। সফলভাবে তা শেষ করলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকৃত ই-সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হন👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *