রাজ্যের চাকরি নিয়োগে বড়সড় পরিবর্তন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ নিয়ম ঘোষণা করলেন। এবার থেকে শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগে সম্পূর্ণ বাংলায় পরীক্ষা হবে। নম্বর বিভাজন সাজানো হবে নতুন করে, যেখানে চাকরিপ্রার্থীদের একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন থেকেও নম্বর থাকবে। এছাড়াও আরও অনেক নতুন নিয়ম। শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে একাধিক বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং মেধাভিত্তিক করে তুলতে নতুন সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর।
রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের টিচিং এবং নন-টিচিং পদে পরীক্ষায় কি কি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দেখে নেব।
এবার থেকে শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগে সম্পূর্ণ বাংলায় পরীক্ষা হবে
স্কুল সার্ভিস কমিশন বা অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অনেক সময় প্রশ্নপত্রের ভাষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ধাঁচে বা সিটেট (CTET) নিয়মে পরীক্ষা নিতে গিয়ে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার প্রাধান্য দেখা যেত, যা রাজ্যের অনেক প্রার্থীর জন্য অসুবিধাজনক হতো। অন্যদিকে এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্য রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের আধিপত্য দেখা যেত।
শিক্ষা দফতরের নতুন ভাবনা অনুযায়ী, এবার থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণভাবে বাংলা ভাষাতে করা হবে। যাতে সমস্ত পরীক্ষার্থীদের সুবিধা হয়। অন্যদিকে বাংলার ভূমিপুত্ররা অগ্রাধিকার পায়।
৩০ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ৬০ নম্বর লিখিত পরীক্ষা
নতুন নিয়মে এও জানানো হয়েছে, যে এবার থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নম্বর বিভাজনে চাকরিপ্রার্থীদের অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিকেশন বা শিক্ষাগত যোগ্যতাও গণ্য করা হবে। আগে কেবল লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই হত। কিন্তু এখন ৩০ নম্বর থাকবে পরীক্ষার্থীর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (Graduation) এবং শিক্ষক শিক্ষণ ট্রেনিং (B.Ed/D.El.Ed) থেকে, ৬০ নম্বর থাকবে লিখিত পরীক্ষার, এবং বাকি ১০ নম্বর ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্ট এবং ক্লাসরুম টিচিং ডেমোন্স্ট্রেশনের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের কার্বন কপি দেওয়ার ভাবনা
শিক্ষক নিয়োগে ওএমআর বা উত্তরপত্র কারচুপি নিয়ে গত কয়েক বছরে বাংলায় অনেক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে, ডেটাবেস বা সার্ভারে এক নম্বর রয়েছে অথচ আসল ওএমআর শিটে অন্য নম্বর। এই ধরনের কারচুপি এবং ‘নম্বর গায়েব’ হওয়ার জল্পনা চিরতরে বন্ধ করতে শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, এবার থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের একটি ‘কার্বন কপি’ (Carbon Copy or Duplicate Copy) নিজেদের সাথে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
এর ফলে যখন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘অ্যানসার কি’ (Answer Key) প্রকাশ পাবে, তখন পরীক্ষার্থীরা নিজেদের কার্বন কপির সাথে মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন তারা ঠিক কত নম্বর পাচ্ছেন। যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১০০% স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
মূল্যায়ন পদ্ধতিও একই রকম করার ভাবনা
এতদিন রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক নিয়োগ, যেমন প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যায়নের আলাদা আলাদা নিয়ম ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, সমস্ত নিয়োগের জন্য ‘ইউনিফর্ম ইভালুয়েশন প্রসেস’ বা একই রকম মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে।
বিঃদ্রঃ এখনো এই নিয়ে অফিসিয়ালি কোনো বিজ্ঞপ্তি আসেনি। আগামী ৬ জুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে খবর। যেকোনো আপডেট আসা মাত্রই তা সবার আগে পেতে চাইলে, আমাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেল ফলো করুন।