পশ্চিমবঙ্গের মা বোনেদের জন্য সুখবর। বুধবার থেকেই চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার ‘ প্রকল্পের ফর্ম। মঙ্গলবার কল্যাণীতে একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন। আগেই রাজ্য সরকার জানিয়েছিল ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন শুরু করার। তার আগেই এবার সেই প্রকল্পের আবেদন ফর্ম সামনে আসতে চলেছে। যারা এই প্রকল্পে আবেদন করবেন, তারা কোথায় ও কীভাবে এই ফর্ম পাবেন, কিভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের একটি নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার বিকালের মধ্যেই নবান্ন থেকে এই ফর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ফর্ম প্রকাশের প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরোও জানান, “আগামীকাল (বুধবার) থেকেই গোটা রাজ্যে এনরোলমেন্ট বা নাম নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। উপভোক্তারা যত দ্রুত এই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেবেন, তত তাড়াতাড়ি তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।”
১লা জুন থেকে ৩,০০০ টাকা, চলবে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও
সবচেয়ে বড়ো কথা হল, আগামী ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ তো চালু হচ্ছেই, তার সঙ্গে আগের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পেও ভাতা দেওয়া হবে বলে এদিন জানানো হয়েছে। যারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ এতদিন পেতেন, তাদের যতদিন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকার প্রথম কিস্তির দেওয়া হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাই আগের নিয়মে ঢুকতে থাকবে। অর্থাৎ, নতুন প্রকল্পের যাচাইকরণ চলাকালীন যাতে মহিলাদের আর্থিক সমস্যায় না পড়তে হয়, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত।
কারা আবেদন করতে পারবেন পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে?
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- বয়সসীমা ২৫-৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- মহিলা নিজে কোনো সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকা চলবে না বা আয়কর দেওয়া চলবে না।
- আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডি বি টি চালু থাকতে হবে।
- যেসব মহিলারা এতদিন লক্ষীর ভান্ডার পেতেন তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন করে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
কোথায় পাবেন ফর্ম? কীভাবে আবেদন করবেন?
বুধবার বিকেলে নবান্ন থেকে নতুন ফর্ম প্রকাশের পর থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আগের ১ জুনের বদলে এখনিই আবেদন শুরু হচ্ছে। সাধারণত অফলাইন এবং অনলাইন দুভাবেই আবেদন করা যাবে বলে জানা গেছে।
অফলাইন আবেদন:
নবান্ন কর্তৃক ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর ব্লক অফিস অথবা নির্দিষ্ট ক্যাম্পের মাধ্যমে সেই ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। বিডিও অফিস থেকে বাড়িতেও লোক পাঠানো হবে ফর্ম ফিলাপের জন্য। বিধায়করা নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে ফর্ম ফিলাপ করাবেন। প্রার্থীদের নিজের হাতে ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাংক পাস বুকের প্রথম পাতা ইত্যাদির জেরক্স এবং পাসপোর্ট ছবি সংযুক্ত করে জমা করে দিতে হবে।
অনলাইনে আবেদন:
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে socialsecurity.wb.gov.in গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সঙ্গে উপরে দেওয়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা করে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করতে হবে।