পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের জন্য সুখবর। এবার বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সার্ভে শুরু। যোগ্য পরিবার গুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র – রাজ্য বৈঠকে এই প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আর তারপরেই বাংলার কোনায় কোনায় ফিল্ড লেভেলে সুবিধাভোগীদের সমীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী জুলাই মাস থেকেই সুবিধা চালু করা হবে বলে সরকারি আপডেট মিলেছে। সেই সঙ্গে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য? সমীক্ষার সময়ে কি কি নথি দেখাতে হবে? সেসবও পরিষ্কার করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা এবং পুরসভা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য ভবন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৫ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে এই সম্পূর্ণ ভেরিফিকেশন এবং পেন্ডিং e-KYC প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কাজের গুণমান বজায় রাখতে এবং জালিয়াতি রুখতে স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের তরফে জেলাশাসক, সিএমওএইচ (CMOH) এবং কলকাতা কর্পোরেশনের কমিশনারকে কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত কি?
‘আয়ুষ্মান ভারত’ হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এটি ‘আয়ুষ্মান ভারত – প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB PM-JAY) নামেও পরিচিত। এটি অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের চালু করা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মতো। এর আওতায় থাকা যোগ্য প্রার্থীদের একটি ডিজিটাল হেলথ কার্ড দেওয়া হয়। এটি দেখালে যে কোন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
কিভাবে সুবিধাভোগীদের নাম বাছাই করা হবে?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের (AB PM-JAY) আসল ও যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে সরকারের কাছে থাকা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (NFSA) ডেটাবেসকে মূল উৎস বা সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ডেটাবেসের অধীনে থাকা প্রধান তিনটি ক্যাটাগরির রেশন কার্ড হোল্ডারদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে:
১. অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)
২. বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (SPHH)
৩. অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (PHH) পরিবার।
খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবার রয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লক্ষ ১,৫৩০টি এবং অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার সুবিধা পান প্রায় ১৬ লক্ষ ১৭ হাজার ৯০ জন নাগরিক। এই সমস্ত পরিবারের তালিকা ধরেই ফিল্ড লেভেলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই কাজ শুরু করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে তা গোটা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ভেরিফিকেশনের সময় যদি উপভোক্তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি ডেটাবেসের মিল পাওয়া যায়, এবং তার e-KYC করা না থাকে, তবে ঘটনাস্থলেই e-KYC সম্পন্ন করা হচ্ছে।
প্রতিটি ব্লক এবং পুরসভা স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের কাজ তদারকি করবেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তথ্য সংগ্রহের পর ভেরিফিকেশন টিমগুলিকে সমস্ত ডেটা অবিলম্বে সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টাল কিংবা নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে ডিজিটাল মাধ্যমে আপডেট করতে হবে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ‘ভেরিফিকেশন অফিসার’দের পদমর্যাদা কোনওভাবেই ‘গ্রুপ-বি’ অফিসারের নিচে হওয়া চলবে না। একটি জেলায় কতজন অফিসার লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক ঠিক করবেন।
কারা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবার যোগ্য?
কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার মারফত কোন কোন পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
১. অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত সমস্ত শ্রমিক ও দিনমজুর।
২. তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত পরিবার।
৩. গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ।
৪. দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিকরা।
৫. পরিবারের কোনো সদস্য যদি বিশেষভাবে সক্ষম বা প্রতিবন্ধী হন।
৬. নিঃস্ব, ভূমিহীন বা আদিবাসী পরিবার।
৭. ৭০ বছরের ঊর্ধ্বের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক (তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে)।
কারা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবেন না?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। তারা হলেন:
১. যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
২. সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি পেনশনার।
৩. সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তি, যাঁদের নিয়মিত প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) কাটা হয়।
৪. যারা ইতিমধ্যে ESIC (Employees’ State Insurance) এর স্বাস্থ্য সুবিধা ভোগ করছেন।
৫. আয়কর বা ট্যাক্স প্রদানকারী নাগরিকরা
কি কি নথি দেখা হচ্ছে?
- আধার কার্ড
- রেশন কার্ড বা ফ্যামিলি আইডি
- আধারের সাথে সংযুক্ত একটি মোবাইল নম্বর
- স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ
- জাতিগত শংসাপত্র
- ইনকাম সার্টিফিকেট
- ব্যাঙ্ক পাসবুক
- পাসপোর্ট ছবি