সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি পড়ানো বন্ধ, বিকাশ ভবনের নির্দেশিকা জারি হল

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের জন্য খারাপ খবর। এবার সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি পড়ানো বন্ধ করা নিয়ে কড়া বার্তা দিল শিক্ষা দপ্তর। ৪ জুন ২০২৬ তারিখে বিকাশ ভবনের ডিরেক্টরেট অব স্কুল এডুকেশন থেকে সমস্ত জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) উদ্দেশ্যে নির্দেশিকা জারি করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্পনসরড বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গৃহশিক্ষকতা বা প্রাইভেট টিউশনি করা একেবারে বন্ধ করা হল। যদি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফের এই অভিযোগ আসে, তবে কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হবে হলে জানানো হয়েছে।

বহুদিন আগে থেকেই রাজ্যে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের টিউশন পড়ানো নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। RTE Act, 2009-এর ধারা ২৮ অনুযায়ী কোনো কর্মরত শিক্ষক কোনো ধরনের ব্যক্তিগত শিক্ষাদান কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
এই আইনের ৩৫(২) উপধারা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি No: 189-SE(Law)/S/1A-01/09 জারি করেছিল, যেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে কোনো শিক্ষকই নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না।
তারপর ফের ২০১৮ সালের ৮ মার্চ বিজ্ঞপ্তি No: 214-SE/S/10M-01/18, Point 6 জারি করে শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছিল, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য কোনো রকম প্রাইভেট টিউশনি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোনো ‘রেমেডিয়াল কোচিং’ বা অতিরিক্ত ক্লাসের আয়োজন করে, তবে শিক্ষকরা সেখানে বিনামূল্যে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবেন।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

অভিযোগকারীদের মতে, স্কুল শিক্ষকরা তো শিক্ষকতা করে সরকারি বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু আলাদা করে আবার প্রাইভেট টিউশন পড়ানোর ফলে সাধারণ ও বৈধ প্রাইভেট টিউটররা, যারা সম্পূর্ণভাবে এই পেশার ওপর নির্ভরশীল, তারা জীবিকা হারাচ্ছেন এবং চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন।

কি বলা হয়েছে নির্দেশিকায়?

wb school education department publishes official notice barring govt school teachers from doing private tution

বিকাশ ভবনের সম্প্রতি জারি করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে RTE আইন ২০০৯ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে এবার রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা সমস্ত স্কুল শিক্ষকদের স্কুলের শিক্ষকতার বাইরে কোনো রকম গৃহশিক্ষকতা বা প্রাইভেট টিউশন পড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলাভিত্তিক স্কুল পরিদর্শকদের বিষয়টি কড়া হাতে দমন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ জমা পড়ে, তবে তার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *