রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ফের বড় সুসংবাদ। রাজ্য সরকারের তরফে আবারো বিরাট নিয়োগের ইঙ্গিত মিলল। ৫ই জুন, শুক্রবার ৫ টি নিয়োগকারী বোর্ডের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই বৈঠকেই রাজ্যের চাকরি নিয়োগে বড়সড় আপডেট ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে শীঘ্রই ৫০ হাজার নিয়োগ নিয়েও আপডেট আসতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন।
তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে নতুন নিয়োগ প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন দপ্তরে স্থায়ী পদে নতুন নিয়োগের বদলে চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কাজ চালানো হত। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। এর একের পর এক সরকারি দপ্তরে নতুন শূন্যপদের খোঁজ মিলছে। আর এই সমস্ত ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাকেই একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং বেকার চাকরিপ্রার্থীদের কল্যাণে নবান্নে পাঁচটি সরকারি নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে নতুন নিয়োগ নিয়ে বড়সড় আপডেট মিলতে চলেছে।
নবান্নের বৈঠকে কোন কোন বোর্ড থাকছে?
উল্লেখিত বৈঠকে উপস্থিত থাকছে:
১. পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)
২. পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (WBPRB)
৩. পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (WBHRB)
৪. পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন (WBMSC)
৫. পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ-ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ড
বৈঠকে কি কি বিষয় নজরে থাকছে?
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এর আগেই বেশ কয়েকটি বড় প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শুক্রবার নবান্নের বৈঠকে এইসব বিষয়ই আলোচনায় থাকছে বলে মনে করা হচ্ছে। যেমন,
- লিখিত পরীক্ষার ওপর জোর: সরকারের আগের ঘোষণা মতোই নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার ওপর জোর বাড়ানো হতে পারে বলে খবর মিলেছে। সেই সঙ্গে ইন্টারভিউ ধাপে নম্বর ১০ থেকে কমিয়ে ৫ করা হতে পারে। এর ফলে নিয়োগে পক্ষপাতিত্ব কমবে, মেধার গুরুত্ব বাড়বে।
- একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন থেকেও নম্বর: এবার থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন থেকেও নম্বর বিভাজন করা হতে পারে বলে আগেই প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। সেই নিয়েও এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
- পি এস সি এর স্বায়ত্তশাসন ফেরানো: বাম আমল অর্থাৎ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদের নিয়োগের দায়িত্ব ছিল পিএসসির হাতে এবং এটি একটি সম্পূর্ণ স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কাজ করত। কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল সরকার এই সংস্থার সাংবিধানিক স্বশাসনের অধিকার কেড়ে নিয়ে এটিকে রাজ্য অর্থ দপ্তরের অধীনস্থ করে দেয়। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, পিএসসি-কে আবার আগের মতো স্বশাসিত সংস্থায় রূপান্তরিত করা হোক।
- ৫০ হাজার নতুন নিয়োগ: বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের কাছে থেকে কোথায় কত শূন্যপদ রয়েছে তার খতিয়ান চেয়ে পাঠিয়েছিল নবান্ন। সেই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতেই সোমবার সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সঙ্গে ডিএ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার নতুন নিয়োগের প্রস্তাব দেন। সেই নিয়ে আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত আপডেট মিলতে পারে।
- অন্যান্য: এছাড়াও স্বচ্ছতা বাড়াতে উত্তরপত্রের কার্বন কপি প্রদান, পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে সরকারি চাকরির ফর্ম ফিলাপ ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও এই বৈঠকে বিরাট ঘোষণা আসতে পারে।
প্রথম দফায় ৫০ হাজার নিয়োগে কোন দপ্তরে কত শূন্যপদ?
প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী যে সমস্ত দপ্তরে বড় নিয়োগ হতে পারে, তার সম্ভাব্য হিসাব নীচে দেওয়া হল:
- রাজ্য পুলিশ (West Bengal Police): সাব-ইন্সপেক্টর (SI) এবং কনস্টেবল মিলিয়ে প্রায় ১০,০০০ শূন্যপদে নিয়োগের প্রস্তাব।
- কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police): প্রায় ৩,০০০ পদে নতুন নিয়োগ।
- প্রশাসনিক অফিস: জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরের (BDO Office) মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসগুলিতে যেখানে এতদিন চুক্তিভিত্তিক বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল, সেখানে বিপুল সংখ্যক স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হবে।
নবান্ন সূত্রের খবর, প্রথম দফায় এই ৫০ হাজার নিয়োগ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, রাজ্যের আর্থিক অবস্থার সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে বাকি শূন্যপদগুলিও পূরণ করা হবে।