কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের ২ বছরের মধ্যে টেট পাস বাধ্যতামূলক! নইলে থাকবে না চাকরি, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। হাতে মাত্র দু বছর সময়। তার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি টিকিয়ে রাখতে হলে দেশের শিক্ষকদের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই সিদ্ধান্তের ফলে লাখ লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। যারা ইতিমধ্যেই চাকরি করছেন, অথচ এখনও টেট পাস করেননি বা যাদের নথিতে খামতি রয়েছে, তাদের চাকরি ধরে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ। তবে কিছু শিক্ষকদের এক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে কোর্ট। তাদের এখনি টেট পাস না করলেও চাকরি যাচ্ছে না।

জাতীয় শিক্ষক শিক্ষণ পরিষদ বা NCTE (National Council for Teacher Education)-এর নিয়ম অনুযায়ী, রাইট টু এডুকেশন (RTE) অ্যাক্ট ২০০৯ কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রাথমিকে শিক্ষকতার জন্য টেট পাস করা একটি অন্যতম প্রধান আইনি শর্ত। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী এখনো দেশের ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক পাশে। এই নিয়ে বারবার অভিযোগ এবং মামলাও উঠেছে কোর্টের দরবারে। পহেলা সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল ৩১ আগস্ট ২০২৭ এর মধ্যে শিক্ষকদের যাদের টেট পাস নেই, তাদের টেট পাস বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি ২৯ মে ২০২৬ আরেকটি রায় মারফত ৩১ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আগামী দু বছরের মধ্যে সমস্ত শিক্ষকদের টেট পাসের নথি দেখাতে হবে।

কারা পড়লেন চরম বিপাকে?

আদালতের এই কড়া নির্দেশের পর মূলত দুই ধরনের শিক্ষক-শিক্ষিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন:

  • অতীতে কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বশিক্ষকদের বিশেষ নিয়মে বা শিথিলতায় প্রাথমিকে স্থায়ী করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেরই টেট শংসাপত্র নেই।
  • ২০১০ বা তার আগের কিছু প্যানেলের শিক্ষক, যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় টেট পাসের বাধ্যবাধকতা নিয়ে আইনি ধোঁয়াশা ছিল।

কাদের টেট পাস বাধ্যতামূলক নয়?

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য টেট পাস বাধ্যতামূলক করা হলেও শিক্ষকদের একাংশকে এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যারা মূলত ৫ বছরের কম সময় ধরে চাকরি করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখনই টেট পাশ বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ এদের চাকরি এখন যাওয়ার কোনো ভয় নেই বলেই ইঙ্গিত মিলেছে আদালত সূত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *