পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেদের জন্য দারুণ সুখবর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আবেদন পোর্টাল চালু করা হলো। আগ্রহী মহিলারা এই পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্রিমিত্রা পাল অফিসিয়ালি ঘোষণা করে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। কারা কারা এখানে আবেদন করতে পারবেন? কিভাবে আবেদন করবেন? আবেদন কত দিন চলবে? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত আজকের প্রতিবেদনে দেখে নেব।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মা-বোনেরা এতদিন ১৫০০ এবং ১৭০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পেতেন। ভোটের আগে বিজেপি ঘোষণা করেছিল রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সেই ভাতা এক ধাক্কায় ডবল করে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার, এবং সেই প্রকল্পের নাম হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। ভোট মিটলো, রাজ্যে বিজেপি নতুন সরকার গঠন করলো। তারপর থেকে মহিলারা এতদিন মুখিয়ে ছিলেন নতুন প্রকল্প নিয়ে কবে সরকারি ঘোষণা আসবে সেই অপেক্ষায়। এবার রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্রিমিত্রা পাল অফিসিয়ালি জানালেন যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের’ পোর্টাল তৈরি হয়ে গেছে। আগে যেমন কথা ছিল, ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সুবিধা
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন। এই টাকা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT মাধ্যমে সরাসরি মহিলা নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে মাসের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে জমা করা হবে। আসলে এই প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুকরণেই তৈরি, তবে এর সুবিধা আগের প্রকল্পের চেয়ে দ্বিগুণ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পোর্টালে কারা আবেদন করার সুযোগ পাবেন, সেই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।
- আগের সরকারের আমলে যারা কোনো কারণে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা পাননি, কিংবা নানাবিধ জটিলতার কারণে এতদিন আবেদন করে উঠতে পারেননি বা নেননি, তারা যদি এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেতে চান, তবে এই পোর্টালে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছেন, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পের ট্রান্সফার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
- এখানে আবেদনের জন্য বয়সসীমা ২৫-৬০ বছর বয়সের মধ্যে থাকতে হবে।
- আবেদনকারী নিজে কোনো স্থায়ী সরকারী চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকা চলবে না বা সরকারের অধীনে বর্তমানে কোনো ভাতা পাওয়া চলবে না।
কিভাবে আবেদন করবেন?
অগ্নিমিত্রা পালের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। তিনি জানিয়েছেন পোর্টাল এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যে কোন কম শিক্ষিত মানুষও সহজেই আবেদন করতে পারেন। কিভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে অনলাইন আবেদন করবেন, নিচে ধাপে ধাপে দেখুন:

- আবেদনকারীদের প্রথমে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নির্দিষ্ট সরকারি অনলাইন পোর্টালে https://socialsecurity.wb.gov.in/login প্রবেশ করতে হবে।
- পোর্টালে গিয়ে আবেদনকারীকে তার সচল মোবাইল নম্বরটি দিতে হবে। নম্বর দেওয়ার সাথে সাথেই ওই মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) চলে আসবে।
- ওটিপি-টি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করতে হবে।
- ওটিপি ভেরিফাই হতেই স্ক্রিনে আবেদনের মূল পেজটি খুলে যাবে।
- আবেদনকারীকে তার ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন নাম, ঠিকানা, বয়স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ নির্ভুলভাবে আবেদনপত্রে পূরণ করতে হবে।
- এরপর প্রয়োজনীয় নথিপত্র কেন করে আপলোড করতে হবে।
সবকিছু হয়ে গেলে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
অনলাইনে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পোর্টালে আবেদন করার সময় কিছু জরুরি নথিপত্র হাতের কাছে রাখা আবশ্যক,
- সচল মোবাইল নম্বর (যেটিতে আধার লিঙ্ক করা আছে)।
- আবেদনকারীর আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ড।
- ব্যাঙ্কের পাসবুক।
- সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট ছবি।
- জাতিগত শংসাপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- রেশন কার্ড (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।