মাধ্যমিক রেজাল্টে নম্বর কম এসেছে? কিভাবে রিভিউ ও স্ক্রুটিনি করাবে দেখে নাও

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) আজ ৮ই মে মাধ্যমিক রেজাল্ট 2026 অফিসিয়ালভাবে প্রকাশ করল। প্রতি বছরের মতো এ বছরও অনেক শিক্ষার্থী রেজাল্টে আশানুরূপ নম্বর পায়নি। এখন অনেকেরই প্রশ্ন, “আমি তো আরও ভালো পরীক্ষা লিখেছিলাম, তাহলে কেন মাধ্যমিক রেজাল্টে নম্বর কম এসেছে? ?” চিন্তা নেই, আপনার যদি মনে হয় যে আরো নম্বর পাওয়া উচিত ছিল, তবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী রিভিউ (PPR) এবং স্ক্রুটিনির (PPS) জন্য সহজেই আবেদন জানাতে পারেন। কীভাবে আবেদন করবেন, কত টাকা লাগবে এবং কী কী নিয়ম রয়েছে, সবটা জানতে প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

মাধ্যমিক হল পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জীবনের প্রথম বড়ো পরীক্ষা। তাই এখানে সফলভাবে পাশ করা ভবিষ্যৎ কেরিয়ারের জন্য খুবই দরকারি। কিন্তু অনেক সময়ে প্রস্তুতি সঠিক থাকা এবং ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়া সত্বেও রেজাল্টে নম্বর কম আসে। এইজন্যই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে তাদের পরীক্ষার খাতা পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দিয়ে থাকে। যাতে যাদের ভুলবশত কোন কারণে নম্বর কাটা গেছে, তারা সঠিক বিচার পায়।

PPR vs PPS: পার্থক্য জেনে নিন

মাধ্যমিক রেজাল্টে নম্বর কম এলে ছাত্রছাত্রীদের হাতে দুটি অপশন থাকে নম্বর বাড়ানোর, একটি Post-Publication Review (PPR) এবং অন্যটি Post-Publication Scrutiny (PPS)। কোনটার কি অর্থ জেনে নিন।

  • PPR (Post Publication Review): রিভিউ-এর ক্ষেত্রে উত্তরপত্রটি নতুন করে যাচাই করা হয়। সমস্ত উত্তরগুলি প্রথম থেকে আরেকবার পরীক্ষক চেক করেন। এখানে নম্বর বাড়ার সম্ভাবনা স্ক্রুটিনির তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে।
  • PPS (Post Publication Scrutiny): স্ক্রুটিনির ক্ষেত্রে পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরের যোগফল ঠিক আছে কি না তা পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া কোনো প্রশ্নের উত্তর নম্বর দেওয়া থেকে বাদ গেল কি না, তাও দেখা হয়। কিন্তু এখানে নতুন করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয় না।

আবেদনের যোগ্যতা

পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, সব শিক্ষার্থী সব বিষয়ের জন্য রিভিউ বা স্ক্রুটিনি করতে পারে না।

  • PPR (Review): যারা পরীক্ষায় পাস করেছে, তারা রিভিউ-এর জন্য আবেদন করতে পারে। তবে সাধারণত কোনো বিষয়ে অন্তত ২০% নম্বর থাকলে তবেই আবেদন গ্রহণ করা হয়।
  • PPS (Scrutiny): পাস বা অকৃতকার্য, সব ধরনের শিক্ষার্থীই স্ক্রুটিনির জন্য আবেদন করতে পারবে। এমনকি যারা কোনো বিষয়ে ফেল করেছে, তারাও স্ক্রুটিনি করাতে পারে।

কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আপনি হয় PPR করতে পারবেন অথবা PPS। একই বিষয়ে দুটিই করা সম্ভব নয়।

আবেদন ফি

পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ের স্ক্রুটিনির জন্য ৮০ টাকা এবং রিভিউর জন্য বিষয় পিছু ১০০ টাকা জমা দিতে হয়।

আবেদনের পদ্ধতি

ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের মাধ্যমে পিপিআর এবং পিপিএস এর জন্য আবেদন করতে পারে।

  • এজন্য একটি সাদা কাগজে নাম, রোল নম্বর, যে বিষয়গুলির জন্য আবেদন করতে চান তার উল্লেখ করে, মার্কশিটের ফটোকপি এবং নির্ধারিত আবেদন ফি নিয়ে নিজেদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে।
  • স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা https://www.wbbsedata.com ওয়েবসাইটে লগইন করে পর্ষদের নির্দেশ অনুসরণ করে আবেদনকারী ছাত্র ও ছাত্রীর জন্য রিভিউ বা স্কুটিনের আবেদন করতে পারবেন।
  • মনে রাখবেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ব্যক্তিগতভাবে কোন ছাত্র বা ছাত্রীর থেকে রিভিউ বা স্কুটিনির আবেদন গ্রহণ করে না।

রিভিউ বা স্ক্রুটিনি করলে কি নম্বর কমে যেতে পারে?

প্রতিবছরই রিভিউ বা স্ক্রুটিনির জন্য আবেদন করা ছাত্রছাত্রীদের মনে একটাই ভয় কাজ করে, নম্বর বাড়ার বদলে যদি উল্টে কমে যায়? স্ক্রুটিনির ক্ষেত্রে নম্বর কমার সম্ভাবনা কম। কিন্তু রিভিউয়ের ক্ষেত্রে যদি পরীক্ষক দেখেন আপনাকে ভুল করে কোন উত্তরের নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে নম্বর কমিয়ে সঠিক নম্বর দেওয়া হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা

  • PPR/PPS আবেদনের সময়সীমা: এবছর পর্ষদ সমস্ত ৮ মে থেকে ২২ মে ২০২৬ পর্যন্ত রিভিউ এবং স্ক্রুটিনির আবেদনের সময়সীমা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের আবেদনগুলি পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
  • PPR/PPS ফলাফলের সময়সীমা: সাধারণত আবেদনের ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে PPR এবং PPS-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *