পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি স্কলারশিপ নিয়ে আজ কথা বলব। আলো চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এনজিওর ‘আলো স্কলারশিপ’ (Aalo Scholarship) স্কিমের আওতায় পড়ুয়ারা প্রতিবছর পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তা পায়। মাধ্যমিক পাশ করার পরই স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করা যায়। মাসিক ৫০০ টাকা থেকে বৃত্তি দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের যেসব শিক্ষার্থী এবছর এই স্কলারশিপে আবেদন করতে চাও, টাটা আজকের প্রতিবেদনে সমস্ত ডিটেইলস জেনে নাও।
| স্কলারশিপের নাম |
আলো স্কলারশিপ। |
| ধরন | বেসরকারি। |
| প্রদানকারী সংস্থা |
আলো চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। |
| টাকার পরিমাণ |
মাসিক ৫০০ টাকা। |
| সুবিধাভোগী |
ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস। |
| আবেদন মোড | অনলাইন। |
| সময়সীমা | – |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট |
আলো স্কলারশিপ টাকার পরিমাণ
আলো স্কলারশিপে নির্বাচিত পড়ুয়াদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়, যা বছরে ৬০০০ টাকা। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার পড়াশোনার খরচ, বইপত্র কেনা এবং স্কুলের অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ নির্বিঘ্নে মেটাতে পারে।
আলো স্কলারশিপ যোগ্যতা
এই স্কলারশিপের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
- আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
- ছাত্র-ছাত্রীকে মাধ্যমিক (Class 10) বা সমতুল্য পরীক্ষায় কমপক্ষে ৭০% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- আবেদনকারীকে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো স্বীকৃত স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণীতে (Class 11) পাঠরত হতে হবে।
- ছাত্র-ছাত্রীর পরিবারকে অবশ্যই বিপিএল (Below Poverty Line) তালিকাভুক্ত হতে হবে অথবা বার্ষিক আয় অত্যন্ত কম হতে হবে।
আলো স্কলারশিপ প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- আধার কার্ড বা রেশন কার্ডের ফটোকপি।
- মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিটের সেলফ অ্যাটেস্টেড জেরক্স কপি।
- পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যালিটি থেকে প্রাপ্ত বিপিএল সার্টিফিকেট অথবা ইনকাম সার্টিফিকেট।
- একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির রসিদ বা স্কুল প্রধানের দেওয়া সংশয়পত্র।
- আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার সেলফ অ্যাটেস্টেড ফটোকপি।
আলো স্কলারশিপ আবেদন পদ্ধতি
আলো স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া মূলত অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। নিচে ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো:
- প্রথমে আলো চ্যারিটি অর্গানাইজেশনের অফিসিয়াল পোর্টালে aalo.org.in যেতে হবে।
- আপনার নাম, ইমেইল আইডি এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
- নির্দিষ্ট ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক আয়ের বিবরণ নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
- ওপরের তালিকায় উল্লিখিত সব নথিপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
- সব তথ্য যাচাই করে আবেদনপত্রটি সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর অ্যাপ্লিকেশন ফর্মটির একটি প্রিন্ট আউট নিয়ে রাখা ভালো।
আরও পড়ুনঃ WB Aikyashree Scholarship 2026 Complete Application Process
আলো স্কলারশিপ নির্বাচন প্রক্রিয়া
আবেদন জমা পড়ার পর অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিকেশন এবং আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী একটি মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। তারপর নির্বাচিত প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। এর ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে টাকা দেওয়া হবে।
আলো স্কলারশিপ লাস্ট ডেট
আলো স্কলারশিপে আবেদন প্রক্রিয়া প্রতিবছর সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শুরু হয়। সাধারণত নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদন জমা করার পর পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই আগে থেকেই আবেদন করা ভালো।
এরকম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সংক্রান্ত আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন![]()