ভারতে অনেক শিক্ষার্থীরাই টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে না। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে দেশে শিক্ষার হার এখনো কম। তাই নারীশিক্ষার প্রসার ঘটাতে এবং মেয়েদের ক্ষমতায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে ‘প্রগতি স্কলারশিপ’। যার মাধ্যমে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ করার পর এখানে আবেদন করা যায়। বছরে ৫০ হাজার টাকা বৃত্তি মেলে। কি কি যোগ্যতা দরকার? কি কি নথিপত্র লাগে? কোথায় গিয়ে আবেদন করতে হয়? ইত্যাদি সমস্ত খুঁটিনাটি নিয়েই আজকে আমাদের এই প্রতিবেদন।
| স্কলারশিপের নাম |
প্রগতি স্কলারশিপ। |
| ধরন | সরকারি। |
| প্রদানকারী সংস্থা |
অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE)। |
| ক্লাস |
ন্যূনতম মাধ্যমিক পাসের পর। |
| আর্থিক সহায়তা |
বছরে ৫০ হাজার টাকা। |
| আবেদন পদ্ধতি | অনলাইন। |
| আবেদনের সময়সীমা | – |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট |
https://www.aicte-india.org/schemes/students-development-schemes/Pragati/ |
প্রগতি স্কলারশিপ শিক্ষাগত যোগ্যতা
- শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস হতে হবে।
- আবেদনকারীকে চলতি শিক্ষাবর্ষে AICTE অনুমোদিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি (Degree) অথবা ডিপ্লোমা (Diploma) কোর্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে।
প্রগতি স্কলারশিপ অন্যান্য যোগ্যতা
- শুধুমাত্র ছাত্রীরাই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুইজন কন্যা সন্তান এই বৃত্তির সুবিধা নিতে পারবেন।
- আবেদনকারীর বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না।
প্রগতি স্কলারশিপ টাকার পরিমাণ
প্রগতি স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত ছাত্রীরা প্রতি বছর ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য পায়। এই টাকা দিয়ে ছাত্রীরা কলেজের টিউশন ফি মেটানো, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কেনা, বইপত্র ক্রয় এবং অন্যান্য শিক্ষা সংক্রান্ত সরঞ্জামের খরচ চালাতে পারে। ডিগ্রি কোর্সের জন্য সর্বোচ্চ ৪ বছর এবং ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য ৩ বছর এই সুবিধা পাওয়া যায়।
প্রগতি স্কলারশিপ প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন করার সময় নিচের নথিপত্রগুলো স্ক্যান কপি হিসেবে সাথে রাখা জরুরি:
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশের মার্কশিট।
- বর্তমান শিক্ষাবর্ষে ভর্তির রশিদ।
- বার্ষিক পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট।
- নিজের আধার কার্ড।
- ব্যাংক পাসবুক (আধার সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক)।
- একটি হলফনামা বা ডিক্লারেশন (যাতে উল্লেখ থাকবে যে পরিবারের তথ্য সঠিক)।
- প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দ্বারা স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট।
আরও পড়ুনঃ মাধ্যমিক পাশে্র পর এই স্কলারশিপগুলোতে অবশ্যই আবেদন করা উচিত
AICTE Pragati Scholarship Application Process
প্রগতি স্কলারশিপের আবেদন অনলাইনে করতে হয়। এজন্য,
- প্রথমে আপনাকে National Scholarship Portal (NSP) এর
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (scholarships.gov.in) যেতে হবে।
- সেখানে ‘New Registration’ বাটনে ক্লিক করে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দিয়ে নথিভুক্ত করতে হবে।
- রেজিস্ট্রেশন সফল হলে আপনার মোবাইলে একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি এবং পাসওয়ার্ড আসবে। সেটি দিয়ে পোর্টালে লগ-ইন করুন।
- লগ-ইন করার পর প্রোফাইল পূর্ণ করুন এবং ‘AICTE Pragati Scholarship Scheme’ অপশনটি বেছে নিন।
- আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যাংক ডিটেইলস নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
- এরপর প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলো আপলোড করুন।
- সব তথ্য যাচাই করে নিয়ে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন।
প্রগতি স্কলারশিপ নির্বাচন প্রক্রিয়া
প্রগতি স্কলারশিপে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হয়। ডিগ্রি কোর্সের ক্ষেত্রে দ্বাদশ শ্রেণীর নম্বর এবং ডিপ্লোমা কোর্সের ক্ষেত্রে দশম শ্রেণীর নম্বরের ওপর ভিত্তি করে একটি মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। যদি দুই বা ততোধিক ছাত্রীর নম্বর সমান হয়, তবে যার বয়স বেশি তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্রীদের একাউন্টে সরকার সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করে।
প্রগতি স্কলারশিপ আবেদনের সময়সীমা
সাধারণত প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এই স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদনের সঠিক দিনক্ষণ জানতে NSP পোর্টাল বা AICTE-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করা উচিত।
প্রগতি স্কলারশিপ হেল্পলাইন
প্রগতি স্কলারশিপ নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা থাকলে আগ্রহী প্রার্থীরা নিম্নলিখিত ইমেল আইডিতে ইমেইল করে জানাতে পারেন।
[email protected]
এরকম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সংক্রান্ত আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন![]()

