সরকারি স্কুলে ছাত্রীদের ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’, সবাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক?


পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে ছাত্রীদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ চালু করল রাজ্য সরকার। এবার থেকে সরকারি স্কুলে ছাত্রীদের ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’ নিতে হবে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ। ‘পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন’-এর উদ্যোগে রাজ্য জুড়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সবার জন্য কি এই প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক? না নিলে কি ক্ষতি? এব্যাপারে সরকারের তরফে যা জানা গেল, দেখে নেব।

শিক্ষা দফতরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৫,২১১টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬,০৬৫টি আপার প্রাইমারি স্কুল, ৯,১৪৬টি সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সুস্থ সবল করতে এবং আত্মরক্ষায় পারদর্শী করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই প্রশিক্ষণে মোট ৮ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে

প্রতিটি নির্বাচিত স্কুলকে আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষকের ফি/সম্মানী বাবদ ৫,০০০ টাকা করে প্রদান করা হবে। সমগ্র রাজ্যের ১৫,২১১টি স্কুলের জন্য মোট ৭ কোটি ৬০ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ‘SNA-SPARSH’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি জেলা শিক্ষা দফতরগুলির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ বিদ্যালয়গুলিতে পৌঁছাবে। এই প্রকল্পের অধীনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্কুল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় (১,১৯৬টি স্কুল, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫৯.৮০ লক্ষ টাকা)।

প্রশিক্ষণ কিভাবে পরিচালিত হবে?

ছাত্রীদের সাধারণ পড়াশোনার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে কথা মাথায় রেখেই প্রশিক্ষণের সময়সূচি ও নিয়মাবলী সাজানো হয়েছে। শনিবারের শেষ ক্লাসে নির্ধারিত ‘আনন্দ পরিসর’-এর সময় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ সেশন হবে ৪০ থেকে ৬০ মিনিট-এর। জেলা শিক্ষা কমিটির দায়িত্ব থাকবে উপযুক্ত ও পেশাদার মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষা বিশেষজ্ঞ বা স্বীকৃত সংস্থাকে প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা।
শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এই কর্মসূচিকে সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিটি স্কুলে একজন করে ‘নোডাল টিচার’ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষককেই নোডাল শিক্ষকের দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি (PTA) এবং স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এছাড়াও ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে ইন্টার-স্কুল ও ইন্টার-সার্কেল স্তরে প্রদর্শনীর আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে সফল ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য ‘অপার আইডি’ বাধ্যতামূলক করল সরকার

সবাইকে নিতে হবে প্রশিক্ষণ?

শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। ইচ্ছুক ছাত্রীরা নিজেদের আগ্রহে এতে অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ এই প্রশিক্ষণ সবাইকে নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বা না নিলে কোনো ক্ষতিও হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হন👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *