রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হতেই শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। পড়ুয়াদের জন্য এল গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। এবার থেকে বেছে বেছে দেওয়া হবে স্কলারশিপ। আর সবাই পাবেনা। পুুরনো SVMCM স্কলারশিপের বদলে নতুন ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালু করা হল। যেখানে কেবল বাছাই করা শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপ পাবে। সোমবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারা কারা পাবেন? জেনে নেব সরাসরি সরকারি ঘোষণা।
পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক পাস থেকে স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ ‘ সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকারি স্কলারশিপ। পশ্চিমবঙ্গের বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে ২০০৬ সালে এই স্কলারশিপ (SVMCM) চালু হয়। পরবর্তীতে, ২০১১ সালে মমতা সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বৃত্তির পরিধি ও আর্থিক অনুদান আরও অনেক বাড়ানো হয়। আর তার সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেমন, মুসলিম , জৈন, বৌদ্ধ ইত্যাদিদের জন্যেও আলাদা করে বৃত্তি চালু হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ওয়েসিস, ঐক্যশ্রী এবং মাইনোরিটি স্কলারশিপ ইত্যাদি। এবার শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ গুলিকে নতুন করে সাজানোর ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ধর্মের ভিত্তিতে স্কলারশিপ বন্ধ
সম্প্রতি রাজ্যের নতুন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সমস্ত ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে এবার থেকে কোনো বিশেষ ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে আর স্কলারশিপ দেওয়া হবে না ছাত্রছাত্রীদের। শুধুমাত্র মেরিটের ওপর ভিত্তি করেই স্কলারশিপ চালু থাকবে।
কারা কারা পাবেন স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ?
সাধারণত এতদিন আগের পরীক্ষায় অন্তত ৬০ শতাংশ নম্বর পেলেই যেকোনো ছাত্রছাত্রী স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপে আবেদন করতে পারত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, এখনো সেইভাবে মেধার ভিত্তিতেই এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। তবে রাজ্যের বিশেষ কোনো সম্প্রদায় বা ধর্মের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা করে কোনো স্কলারশিপ দেওয়া হবে না। পরিবর্তে ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ – এই একটি স্কলারশিপের মাধ্যমেই সকল প্রকৃত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। মূল কথা, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই পাবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো কোটায় নয়, বরং নম্বরের ভিত্তিতেই।
আর কি জানানো হয়েছে?
এদিন ধনধান্য অডিটোরিয়ামের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “রাজ্যের নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” বাংলার শিক্ষা ক্ষেত্রকে আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তুলতে প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে স্কুলকে ‘পিএম শ্রী’ (PM SHRI) প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং লাইব্রেরি তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।