পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা এবার পশ্চিমবঙ্গে, কারা এবং কীভাবে আবেদন করতে পারবেন?

রাজ্যবাসীর জন্য আনন্দের সংবাদ। দেশের দরিদ্র জনগণের স্বার্থে গত ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ নামে প্রকল্প আরম্ভ করেছিলেন। এতদিন বাংলার নাম সেই প্রকল্পে না উঠলেও এবার রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর সেই প্রকল্প শুরু করার ঘোষণা করা হলো। গত ১১ মে রাজ্যের ক্যাবিনেট এর প্রথম বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে। যার আওতায় রাজ্যের দরিদ্র কারিগর বা হস্তশিল্পীরা সরকারের তরফ থেকে নানা ধরনের আর্থিক সহায়তা পাবেন। কি কি যোগ্যতা থাকলে এখানে আবেদন করা যাবে? কিভাবে আবেদন করবেন? সম্পূর্ণ বিবরণ এখানে জেনে নেব।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা হল কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প মন্ত্রকের (MSME) একটি বিশেষ উদ্যোগ। এটি মূলত ভারতের গ্রামীণ এবং শহরতলির কারিগরদের, যারা হাতে বা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছিল। তবে রাজ্যের বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন বাংলা থেকে প্রায় ৯ লক্ষ আবেদন করার পরও এতদিন পুরনো সরকার জেলাশাসকদের মারফত সেইসব আবেদন কেন্দ্রের MSME দপ্তরে পাঠাতে দেয়নি। কিন্তু এবার উদ্যোগ নিয়ে সেই সব আবেদন মঞ্জুর করানোর প্রচেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা সুবিধা

এই যোজনার অধীনে কারিগররা প্রধানত ৬টি বড় সুবিধা পেয়ে থাকেন:

  • আবেদনের পর একটি ডিজিটাল আইডি কার্ড এবং সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
  • এই প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগরদের আরো উন্নত কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণের সময় প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়।
  • প্রশিক্ষণ শেষে আধুনিক যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম কেনার জন্য ১৫,০০০ টাকার অনুদান পাওয়া যায়।
  • কোনো জামানত ছাড়া ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রথম দফায় পাওয়া যায়।
  • প্রথম দফার ঋণ সফলভাবে পরিশোধ করলে, ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাত্র ৫% সুদের হারে দ্বিতীয় দফার ঋণ পাওয়া যায়।
  • প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেনে ১ টাকা করে ইনসেন্টিভ পাওয়া যায়।

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা আবেদনের যোগ্যতা

পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • আবেদনের সময় বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।
  • প্রার্থীকে প্রথাগত কোন কারিগরি বা হস্তশিল্প পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।
  • পরিবারের মাত্র একজন সদস্য এই সুবিধা পাবেন।
  • আবেদনকারী বা পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে আবেদন করতে পারবেন না।
  • গত ৫ বছরে পিএমইজিপি (PMEGP), মুদ্রা (Mudra) বা অন্য কোনো আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে যারা ঋণ নিয়েছেন, তারা এই যোজনার জন্য যোগ্য নন।

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা কোন কোন পেশায় দেওয়া হয়?

নিচের ১৮ টি পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন:
১. ছুতার
২. নৌকা নির্মাতা
৩. অস্ত্রকার
৪. কামার
৫. তালা-চাবি নির্মাতা
৬. সোনার কারিগর
৭. কুমার
৮. ভাস্কর বা মূর্তি শিল্পী
৯. চর্মকার বা মুচি
১০. রাজমিস্ত্রি
১১. ঝুড়ি/মাদুর/ঝাড়ু নির্মাতা
১২. ঐতিহ্যবাহী পুতুল ও খেলনা নির্মাতা
১৩. নাপিত
১৪. মালাকার
১৫. ধোপা
১৬. দর্জি
১৭. মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক
১৮. শিল-নোড়া প্রস্তুতকারক

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা আবেদনের কাগজপত্র

এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য নিম্নলিখিত নথিপত্রের প্রয়োজন,

  • আধার কার্ড (মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকতে হবে)।
  • ভোটার আইডি কার্ড।
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস।
  • রেশন কার্ড।
  • পেশা বা ট্রেড সংক্রান্ত প্রমাণ (যদি থাকে)।
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা আবেদন পদ্ধতি

সম্প্রতি রাজ্যে চালু হওয়া বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পে কিভাবে আবেদন করবেন তা ধাপে ধাপে নিচে দেখে নিন:

  • আপনার নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) বা গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভায় যান।
  • সেখানে নিজের আধার কার্ডের ওটিপি এবং আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে রেজিস্টার করুন।
  • আবেদনের ফর্ম ফিলাপ করুন এবং সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুলি জমা করুন।
  • গ্রাম পঞ্চায়েত বা জেলা পর্যায় থেকে আপনার আবেদনটি যাচাই হবে।
  • যাচাই সম্পন্ন হলে যদি আপনি যোগ্য হন তবে পোর্টাল থেকে ডিজিটাল আইডি কার্ড এবং সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *